সংস্থাটির সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, উৎপাদন কমলেও এটি হবে ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শস্য উৎপাদন। তবে গত বছরের রেকর্ড উৎপাদনের তুলনায় এবার উৎপাদন ২ দশমিক ৭ শতাংশ কম হতে পারে। খবর ওয়ার্ল্ড-গ্রেইন ডটকম।
আইজিসির সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় এবার উৎপাদন ৬ কোটি ৯০ লাখ টন কম হতে পারে। মূলত ভুট্টা ও গম উৎপাদন কমে যাওয়ায় সার্বিক উৎপাদনে এ পতন দেখা দেবে। পাশাপাশি ওটস, জোয়ার ও রাইয়ের উৎপাদনও এ সময়ে কমতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
নতুন পূর্বাভাস অনুযায়ী, ভুট্টা উৎপাদন ৮২ কোটি ১০ লাখ টন হতে পারে, যা আগের বছরের চেয়ে ২ কোটি ৩০ লাখ টন কম। অন্যদিকে গম উৎপাদন আগের বছরের তুলনায় ৩ কোটি ৭০ লাখ টন কমে ১৩০ কোটি ৬০ লাখ টনে নামতে পারে।
উৎপাদন কমলেও বিশ্বজুড়ে খাদ্যশস্যের ব্যবহার নতুন রেকর্ড ছুঁতে পারে বলে মনে করছে সংস্থাটি। ক্রমবর্ধমান চাহিদা ও কম সরবরাহের কারণে বিশ্ববাজারে খাদ্যশস্যের উদ্বৃত্ত মজুদ ২ কোটি ৬০ লাখ টন কমে যেতে পারে। ফলে বছর শেষে মোট মজুদের পরিমাণ দাঁড়াবে ৬১ কোটি টনে।
পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী খাদ্যশস্যের বাণিজ্যও ১ কোটি ৭০ লাখ টন কমে ৪৫ কোটি টনে নেমে আসতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার দেশগুলোয় গম এবং বার্লির সরবরাহ কমে যাওয়ায় মূলত বিশ্ব বাণিজ্য কমবে। আইজিসি আরো জানিয়েছে, কৃষ্ণসাগর অঞ্চলের প্রধান রফতানিকারক দেশগুলোয় পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। তবে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধ নতুন করে তীব্র হওয়ায় রফতানি লজিস্টিকস ব্যাহত হচ্ছে, যা সরবরাহ পরিস্থিতিকে অনিশ্চিত করে তুলেছে।
আশার কথা হচ্ছে, বিশ্বজুড়ে সয়াবিন উৎপাদন নতুন রেকর্ড গড়তে পারে। ব্রাজিল ও যুক্তরাষ্ট্রে ভালো ফলন হওয়ায় সয়াবিন উৎপাদন এক কোটি টন বেড়ে ৪৪ কোটি ১০ লাখ টনে পৌঁছতে পারে। এছাড়া এশিয়ায় চাহিদা বাড়ায় সয়াবিনের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ২ শতাংশ বাড়তে পারে।
বিপরীতে এশিয়া ও আমেরিকার দেশগুলোয় ফলন কম হওয়ায় বিশ্বের চাল উৎপাদন প্রায় ১ শতাংশ কমতে পারে। তবে এশিয়া ও আফ্রিকায় খাদ্যের চাহিদা বাড়ায় চালের ব্যবহার ১ শতাংশ বৃদ্ধির পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। খাদ্যশস্যের এ সংকটে বিশ্ববাজারে দামও চড়া রয়েছে, যা গত বছরের জুলাইয়ের তুলনায় প্রায় ১২ শতাংশ বেশি।