আইজিসির পূর্বাভাস

২০২৬-২৭ মৌসুমে বিশ্বজুড়ে কমতে পারে খাদ্যশস্যের উৎপাদন

২০২৬-২৭ বিপণন বর্ষে বিশ্বজুড়ে খাদ্যশস্যের উৎপাদন কমতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক শস্য কাউন্সিল (আইজিসি)।

সংস্থাটির সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, উৎপাদন কমলেও এটি হবে ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শস্য উৎপাদন। তবে গত বছরের রেকর্ড উৎপাদনের তুলনায় এবার উৎপাদন ২ দশমিক ৭ শতাংশ কম হতে পারে। খবর ওয়ার্ল্ড-গ্রেইন ডটকম।

আইজিসির সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় এবার উৎপাদন ৬ কোটি ৯০ লাখ টন কম হতে পারে। মূলত ভুট্টা ও গম উৎপাদন কমে যাওয়ায় সার্বিক উৎপাদনে এ পতন দেখা দেবে। পাশাপাশি ওটস, জোয়ার ও রাইয়ের উৎপাদনও এ সময়ে কমতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

নতুন পূর্বাভাস অনুযায়ী, ভুট্টা উৎপাদন ৮২ কোটি ১০ লাখ টন হতে পারে, যা আগের বছরের চেয়ে ২ কোটি ৩০ লাখ টন কম। অন্যদিকে গম উৎপাদন আগের বছরের তুলনায় ৩ কোটি ৭০ লাখ টন কমে ১৩০ কোটি ৬০ লাখ টনে নামতে পারে।

উৎপাদন কমলেও বিশ্বজুড়ে খাদ্যশস্যের ব্যবহার নতুন রেকর্ড ছুঁতে পারে বলে মনে করছে সংস্থাটি। ক্রমবর্ধমান চাহিদা ও কম সরবরাহের কারণে বিশ্ববাজারে খাদ্যশস্যের উদ্বৃত্ত মজুদ ২ কোটি ৬০ লাখ টন কমে যেতে পারে। ফলে বছর শেষে মোট মজুদের পরিমাণ দাঁড়াবে ৬১ কোটি টনে।

পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী খাদ্যশস্যের বাণিজ্যও ১ কোটি ৭০ লাখ টন কমে ৪৫ কোটি টনে নেমে আসতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার দেশগুলোয় গম এবং বার্লির সরবরাহ কমে যাওয়ায় মূলত বিশ্ব বাণিজ্য কমবে। আইজিসি আরো জানিয়েছে, কৃষ্ণসাগর অঞ্চলের প্রধান রফতানিকারক দেশগুলোয় পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। তবে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধ নতুন করে তীব্র হওয়ায় রফতানি লজিস্টিকস ব্যাহত হচ্ছে, যা সরবরাহ পরিস্থিতিকে অনিশ্চিত করে তুলেছে।

আশার কথা হচ্ছে, বিশ্বজুড়ে সয়াবিন উৎপাদন নতুন রেকর্ড গড়তে পারে। ব্রাজিল ও যুক্তরাষ্ট্রে ভালো ফলন হওয়ায় সয়াবিন উৎপাদন এক কোটি টন বেড়ে ৪৪ কোটি ১০ লাখ টনে পৌঁছতে পারে। এছাড়া এশিয়ায় চাহিদা বাড়ায় সয়াবিনের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ২ শতাংশ বাড়তে পারে।

বিপরীতে এশিয়া ও আমেরিকার দেশগুলোয় ফলন কম হওয়ায় বিশ্বের চাল উৎপাদন প্রায় ১ শতাংশ কমতে পারে। তবে এশিয়া ও আফ্রিকায় খাদ্যের চাহিদা বাড়ায় চালের ব্যবহার ১ শতাংশ বৃদ্ধির পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। খাদ্যশস্যের এ সংকটে বিশ্ববাজারে দামও চড়া রয়েছে, যা গত বছরের জুলাইয়ের তুলনায় প্রায় ১২ শতাংশ বেশি।

আরও